Wednesday, July 26, 2017

মেঘের গায়ে জেলখানায়

গান বাজছে দূরে  কোথাও।অচেনা পাহাড়ি গান।জংগলের মাঝে একেবেকে রাস্তাটা উঠে গেছে গভীরতর জংগলে।পাহাড়ি জংগল,তাই বুনো চিতাবাঘ চলেএলে চট করে পালানো মুস্কিল।গ্রাম থেকে একটা সরু রাস্তা একজনের বাড়ির ভেতর দিয়ে জংগলে নেমে গেছে।আবার উঠে গেছে একটা পাহাড়ি ঝোরা পার করে।গানটা মিলিয়ে গেল, আস্তে আস্তে।আমরা ভয়ে ভয়ে এগোচ্ছি এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে।চিতাবাঘ একটা, খুব জালাচ্ছে গ্রামবাসীদের।তবে চট করে দিনেরবেলা সামনে আসে না।ওরাও ভয়পায় মানুষকে বড়ই। এটা বুড়োচিতা। শিকার ধরতে না পেরে,গ্রামে ঢুকে হাস মুরগি নিয়ে যাচ্ছে।
একটাই রাস্তা উঠে যাচ্ছে পাক খেয়ে খেয়ে। একা মানুষ চলতে পারে,এমন পাকদণ্ডি। ডানদিকে বিভিন্ন বুনোফুলের ঝোপ।অচেনা গন্ধ।

অনন্যা, তিব্বতে টিনটিন এর ক্যাপ্টেন হ্যাডকের মত প্রথমে লাফিয়ে লাফিয়ে চলছিল।বেশ পেছনে,আমি আর ছোটমামা এদিক ওদিক চলছি,ক্যামেরা অন করে,।
একটু বাদেই হাপিয়ে পড়ে, ধপ করে বসে পড়ল একটা উচু বাকের মুখে।আমাদের গাইড বাবু মিটিমিটি হাসছেন!!
বক্সা ফোর্ট থেকে লেপচাখা যাওয়ার প্রায় ৮ কিমি রাস্তায়,পুরোটাই জংগল। পাহাড়ি,ট্রেকিং রুট।তবে জন্তুজানোয়ারের একটু উপদ্রব আছে।সাবধানে চললে অবশ্যি আমাজনেও ভয় নেই।
আমাদের সাথে, এক মালবাহক  শ্যুটিং সামগ্রী নিয়ে উঠছেন,নিশিন্ত মুখে।ওনার কোমরে কুকরি গোজা।মুখে মিষ্টি হাসি।
আমরা ক্রমাগত উঠেই চলেছি রাস্তা বেয়ে বেয়ে।অনন্যা এরই মধ্যে বিভিন্ন বাঁকে,  শট দিচ্ছে হাসি মুখে। শট শেষ হলেই,একলাফে গাইডের পাশে চলে এসে চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে,চিতার হলুদ ছোপের ঝলক নেই তো আশেপাশে ??
নেপালী মহিলা, কাধে সবুজ পাতার বোঝা নিয়ে নেমে আসছে হাসিমুখে।এদের সব্বার মুখে হাসি।বোধকরি, চিতাটাও হাসিমুখে দাঁড়াবে।।
লেপচাখা পৌছালাম দুপুর পার করে।পাহাড়ের ওপর বাটির মত একরত্তি এক তিব্বতি গ্রাম।দূর থেকে দেখা যায়, হলুদ লাল পতাকা, তিব্বতি গুম্ফার চুড়া থেকে নেমে এসেছে সার সার।
দু একটা হোম স্টে।ব্যাস।লোকজন প্রায় নেইই বলতে গেলে।গোটা দশেক বাড়ি ঘর।একটা গুম্ফা,একটি দোকান।ব্যাস।
পাশেই ছোট্ট দোকানে পাহাড়ি মদ রস্কি,ছুরপি,মধু,আর পিতোরা,।ঝিম ধরা পাহাড়ি মেঘলা দুপুর।ছোটমামা কাঠের বেঞ্চে বসে, পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে চোখ বুজলেন।
অনন্যা কয়েকটি নেপালী বাচ্চার সাথে বেদম ঝগড়া করে,শেষে ক্লান্ত হয়ে মেঘের মধ্যে এক বেঞ্চে বসে পড়ল।
হ্যা.... মেঘের মধ্যেই বেঞ্চটি ছিল রাখা।খাদের ধারে একেবারে।অনন্যা মিলিয়ে গেল।
চারদিক হঠাত শুনশান হয়ে পড়ল।
একটু বাদে.....
ঝুপ ঝুপ করে বৃষ্টি নামল।আমিও ক্যামেরা বন্ধ করে, খাদের দিকে এগিয়ে গেলাম।
পেছনে গুম্ফায় শুরু হল  গম্ভীর গলায়,তিব্বতি মন্ত্রপাঠ।

No comments:

Post a Comment