একটা ৬ইঞ্চি পাতলা দেয়াল।তার ঠিক ওপারেই ওর দ্রুত নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছি।আমি স্থির চোখে চেয়ে আছি হলদে রংচটা দেয়ালের দিকে।আমার ডানদিকে মাম একবার দেয়ালের দিকে তাকাচ্ছে, আর একবার আমার দিকে।পুর্বা আমার জামা শক্ত করে চেপে দাঁড়িয়ে ঠকঠক করে কাপছে,মাম ওর মুখ চেপে রেখেছে বা হাত দিয়ে।
আমি মাথা না ঘুরিয়ে আড়চোখে বাঁ দিকে দেখে নিলাম ভেতরবাড়ি যাওয়ার দরজায় বান্টিদা দাঁড়িয়ে আছে। আর আমার ডানদিকে কাঠের দরজার একটা পাল্লা খোলা...চোয়াল শক্ত করে খুব ধীরে মাথা নীচু করে বান্টিদা আমায় ইসারায় ডাকল। আমি নড়লেই আওয়াজ হবে,আর একটু শব্দ হলেই.... প্রায় ১২ ফুট উচু দাতাল মদ্দা পাগলা হাতিটা দরজা আর দেয়ালটা জাস্ট ভেঙে ঢুকে আমাদের পিষে ফেলবে।ওই পাতলা দেয়াল ওর কাছে পিজবোর্ড এর খেলনার মতই।
রাতের খাওয়ার টেবিলেই বসে শুনছিলাম, কাঠের বাংলোর পেছনের জংগল থেকে এই বিচ্ছিরি রকম বড় দাতালটার চিৎকার। শোনা মাত্রই,আধখাওয়া ডিম ফেলে ক্যামেরা নিয়ে ছুটদিলাম বান্টিদার সাথে, জাস্ট ৩-৪ টে বাড়ি পরে, ফরেস্ট গার্ড এর জঙ্গল ঘেষাছোট্ট কোয়ার্টারে।ওর বাড়ির পেছনের জঙ্গলেই নাকি হাতিটা কলাগাছ খাচ্ছে,,ব্যাটা জাস্ট দিন দুয়েক আগেই এক বুড়িকে তার ঘর ভেঙে ঢুকে পা দিয়ে থেঁতলে মেরে, চাল খেয়ে পালিয়েছে....বড্ড জ্বালাচ্ছে নাকি এই দাঁতাল!!
এ হেন সু সময়ে আমি আর বসে ডিম খাই কি ভাবে!!
কিন্তুগভীর অন্ধকারে,বেশ কিছুদুর যাওয়ার পর দেখি মাম আর পুর্বা হাত ধরাধরি করে ঠিক আমাদের পেছনেই আসছে..হাতি দেখব,হাতি দেখব,.. বলতে বলতে। আমাদের,, কি আর বলব,,, জাস্ট গা জ্বলে গেল।কিন্তু তখন আর পেছন ফেরার উপায় নেই,চারদিকেই তো জংগল,...
ওদের নিয়েই,পায়ে পায়ে ওই নির্দিষ্ট কোয়ার্টার এর পেছনের উঠোনে পৌছে গেলাম।উঠোনের ওপারেই ঘন জংগল।ওইখান থেকেই মসমস শব্দ ভেসে আসছে....কেউ একটা যেন ফুঁসসছে রাগে...
ওই ফরেস্ট গার্ড আমাদের দেখে ভিরমি খাওয়ার জোগার!!উঠোনের দিকের দরজা বন্ধ রেখে জানলা একপাটি খুলে উনি উকি মারছেন। হাত দিয়ে ইসারায় উঠোনে হাতি পালান পালান.বলার চেষ্টা ... খুব সন্তর্পনে একপাটি দরজা একটু ফাক করে খুলে হাত দিয়ে দ্রুত ইসারায় ভেতরে চলে আসতে বললেন। আমরা দ্রুত দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতেই টের পেলাম পেছনে কালাপাহাড় তেড়ে আসছে ঝোপঝাড় ভেঙে!!!!! আমরা ঘরে ঢুকেই বাঁ দিকেই দাঁড়িয়ে পড়লাম হতভম্বের মত!! বান্টিদা এক দৌড়ে ভেতরঘরের দরজা দিয়ে ভেতর বাড়িতে চলে গেল গার্ডের সাথে।আর ওই কালাপাহাড় এসে দেয়ালের ওপারে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। আর পা দিয়ে মাটি ঘষতে লাগল ক্রমাগত....
আমরা ঘরে ঢুকে, বাঁ দিকে গিয়েই,পাথরের মত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম...... বুঝলাম,বিচ্ছিরি এক ভুল করে বসেছি!! এবার আর কি....স্টাচু হয়ে থাক আর কি!!!
এক একটা মিনিট মনে হচ্ছে এক বছর....
৬ ইঞ্চি দেয়ালের ওপারেই মৃত্যু!!! আর এপারে আমরা ৩ জন আর খান ২০০ মশা!!
এভাবে হাতিটাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে পড়ল বোধহয়... আমার দিকে ২০০ মশা হলে ওই ব্যাটার দিকে তো হাজার খানেক হবেই...আর সে সব রাক্ষুসে মশা...হুল ফুটিয়ে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে সমানে...
আর তা ছাড়া,দেয়ালের আড়ালে থাকাতে ও ব্যাটা কিছুতেই আমাদের দেখতেও পাচ্ছে না, আর সাড়া শব্দ না পেয়ে আরও বিরক্ত.... কিন্তু বিরাট ভাগ্য যে গত দিনের মত ওনার দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার ইচ্ছে হয়নি....বেশ কিছুক্ষণ কাটার পর,একবার জাস্ট ভীষণ জোরে হুংকার দিল ।মাম এবার কেপে চিৎকার দিয়ে উঠল,সাথে পুর্বাও......।আর প্রায় সাথে সাথেই আমি মাম আর পুর্বাকে দুহাতে চেপে ধরে এক ছুট দিলাম ভেতরবাড়িরর সদর দরজার দিকে....যাওয়ার সময় এক ঝলক ডানদিকে তাকিয়ে,পাতলা কাঠের হাফ খোলা দরজার ওপারে অন্ধকার জংগলের মাঝে আকাশছোঁয়া উচ্চতায় দুটো লাল বিন্দু জ্বলতে দেখলাম।।প্রবল জোরে মাথা ঝাকিয়ে উঠল সে...আবার এক চিৎকারে রাতের বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট কেপে উঠল!!!
তারপর দেখি আস্তে আস্তে ধুলোর ঝড় তুলে, রাতের অন্ধকারে,গভীর জংগলে মিলিয়ে গেল দাতালটা।
#পুনশ্চ : এই পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে মিনিট ৫ এর মধ্যে....আর পুরোটাই আমার ক্যামেরা বন্দী করা আছে !!! অনেকেই দেখেছে ভিডিওটি!! কিন্তু আমাদের তখন মনে হয়েছিল বোধহয় ঘন্টা খানেক ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
কিন্তু ওখানেই শেষ নয়....হাতি শেষ রাতে আবার ফিরে এসেছিল আমাদের কাঠের বাংলোর নীচে দাঁড়িয়ে লম্ফঝম্প করে গেছে....
তখনও আমি বাইরে........হাতির পেছনে....ক্যামেরা হাতে!!!!
তবে মাঝরাতে ফিরে এসে ওই আধ খাওয়া ডিম টা কিন্ত আর খুজে পাইনি কোথাও!!
আমি মাথা না ঘুরিয়ে আড়চোখে বাঁ দিকে দেখে নিলাম ভেতরবাড়ি যাওয়ার দরজায় বান্টিদা দাঁড়িয়ে আছে। আর আমার ডানদিকে কাঠের দরজার একটা পাল্লা খোলা...চোয়াল শক্ত করে খুব ধীরে মাথা নীচু করে বান্টিদা আমায় ইসারায় ডাকল। আমি নড়লেই আওয়াজ হবে,আর একটু শব্দ হলেই.... প্রায় ১২ ফুট উচু দাতাল মদ্দা পাগলা হাতিটা দরজা আর দেয়ালটা জাস্ট ভেঙে ঢুকে আমাদের পিষে ফেলবে।ওই পাতলা দেয়াল ওর কাছে পিজবোর্ড এর খেলনার মতই।
রাতের খাওয়ার টেবিলেই বসে শুনছিলাম, কাঠের বাংলোর পেছনের জংগল থেকে এই বিচ্ছিরি রকম বড় দাতালটার চিৎকার। শোনা মাত্রই,আধখাওয়া ডিম ফেলে ক্যামেরা নিয়ে ছুটদিলাম বান্টিদার সাথে, জাস্ট ৩-৪ টে বাড়ি পরে, ফরেস্ট গার্ড এর জঙ্গল ঘেষাছোট্ট কোয়ার্টারে।ওর বাড়ির পেছনের জঙ্গলেই নাকি হাতিটা কলাগাছ খাচ্ছে,,ব্যাটা জাস্ট দিন দুয়েক আগেই এক বুড়িকে তার ঘর ভেঙে ঢুকে পা দিয়ে থেঁতলে মেরে, চাল খেয়ে পালিয়েছে....বড্ড জ্বালাচ্ছে নাকি এই দাঁতাল!!
এ হেন সু সময়ে আমি আর বসে ডিম খাই কি ভাবে!!
কিন্তুগভীর অন্ধকারে,বেশ কিছুদুর যাওয়ার পর দেখি মাম আর পুর্বা হাত ধরাধরি করে ঠিক আমাদের পেছনেই আসছে..হাতি দেখব,হাতি দেখব,.. বলতে বলতে। আমাদের,, কি আর বলব,,, জাস্ট গা জ্বলে গেল।কিন্তু তখন আর পেছন ফেরার উপায় নেই,চারদিকেই তো জংগল,...
ওদের নিয়েই,পায়ে পায়ে ওই নির্দিষ্ট কোয়ার্টার এর পেছনের উঠোনে পৌছে গেলাম।উঠোনের ওপারেই ঘন জংগল।ওইখান থেকেই মসমস শব্দ ভেসে আসছে....কেউ একটা যেন ফুঁসসছে রাগে...
ওই ফরেস্ট গার্ড আমাদের দেখে ভিরমি খাওয়ার জোগার!!উঠোনের দিকের দরজা বন্ধ রেখে জানলা একপাটি খুলে উনি উকি মারছেন। হাত দিয়ে ইসারায় উঠোনে হাতি পালান পালান.বলার চেষ্টা ... খুব সন্তর্পনে একপাটি দরজা একটু ফাক করে খুলে হাত দিয়ে দ্রুত ইসারায় ভেতরে চলে আসতে বললেন। আমরা দ্রুত দরজা দিয়ে ঢুকতে ঢুকতেই টের পেলাম পেছনে কালাপাহাড় তেড়ে আসছে ঝোপঝাড় ভেঙে!!!!! আমরা ঘরে ঢুকেই বাঁ দিকেই দাঁড়িয়ে পড়লাম হতভম্বের মত!! বান্টিদা এক দৌড়ে ভেতরঘরের দরজা দিয়ে ভেতর বাড়িতে চলে গেল গার্ডের সাথে।আর ওই কালাপাহাড় এসে দেয়ালের ওপারে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। আর পা দিয়ে মাটি ঘষতে লাগল ক্রমাগত....
আমরা ঘরে ঢুকে, বাঁ দিকে গিয়েই,পাথরের মত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম...... বুঝলাম,বিচ্ছিরি এক ভুল করে বসেছি!! এবার আর কি....স্টাচু হয়ে থাক আর কি!!!
এক একটা মিনিট মনে হচ্ছে এক বছর....
৬ ইঞ্চি দেয়ালের ওপারেই মৃত্যু!!! আর এপারে আমরা ৩ জন আর খান ২০০ মশা!!
এভাবে হাতিটাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে পড়ল বোধহয়... আমার দিকে ২০০ মশা হলে ওই ব্যাটার দিকে তো হাজার খানেক হবেই...আর সে সব রাক্ষুসে মশা...হুল ফুটিয়ে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে সমানে...
আর তা ছাড়া,দেয়ালের আড়ালে থাকাতে ও ব্যাটা কিছুতেই আমাদের দেখতেও পাচ্ছে না, আর সাড়া শব্দ না পেয়ে আরও বিরক্ত.... কিন্তু বিরাট ভাগ্য যে গত দিনের মত ওনার দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার ইচ্ছে হয়নি....বেশ কিছুক্ষণ কাটার পর,একবার জাস্ট ভীষণ জোরে হুংকার দিল ।মাম এবার কেপে চিৎকার দিয়ে উঠল,সাথে পুর্বাও......।আর প্রায় সাথে সাথেই আমি মাম আর পুর্বাকে দুহাতে চেপে ধরে এক ছুট দিলাম ভেতরবাড়িরর সদর দরজার দিকে....যাওয়ার সময় এক ঝলক ডানদিকে তাকিয়ে,পাতলা কাঠের হাফ খোলা দরজার ওপারে অন্ধকার জংগলের মাঝে আকাশছোঁয়া উচ্চতায় দুটো লাল বিন্দু জ্বলতে দেখলাম।।প্রবল জোরে মাথা ঝাকিয়ে উঠল সে...আবার এক চিৎকারে রাতের বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট কেপে উঠল!!!
তারপর দেখি আস্তে আস্তে ধুলোর ঝড় তুলে, রাতের অন্ধকারে,গভীর জংগলে মিলিয়ে গেল দাতালটা।
#পুনশ্চ : এই পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে মিনিট ৫ এর মধ্যে....আর পুরোটাই আমার ক্যামেরা বন্দী করা আছে !!! অনেকেই দেখেছে ভিডিওটি!! কিন্তু আমাদের তখন মনে হয়েছিল বোধহয় ঘন্টা খানেক ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
কিন্তু ওখানেই শেষ নয়....হাতি শেষ রাতে আবার ফিরে এসেছিল আমাদের কাঠের বাংলোর নীচে দাঁড়িয়ে লম্ফঝম্প করে গেছে....
তখনও আমি বাইরে........হাতির পেছনে....ক্যামেরা হাতে!!!!
তবে মাঝরাতে ফিরে এসে ওই আধ খাওয়া ডিম টা কিন্ত আর খুজে পাইনি কোথাও!!
No comments:
Post a Comment