Monday, January 9, 2017

বিকেলবেলাটা যখন সন্ধের দিকে হেলে গেল,আমাদের কাচের টেবিলের ওপর চারটে কফির কাপ দিয়ে চলেগেল নস্যি রঙের পোশাক পরা বেয়ারা।আমি চেয়ার নিয়ে বাকীদের দিকে পেছন ফিরে জঙ্গলের দিকে মুখ করে ক্যামেরা নিয়ে বসে আছি।বিন বিন করছে মশা...আস্তে আস্তে জমাট বাধছে অন্ধকার।
কফির কাপটা হাতে নিয়ে চুমুক দিতে  গিয়েই থমকে গেলাম।যে উঁচু সিমেন্ট বাধানো চাতালে এই ক্যাফেটেরিয়াটা,তার চারদিকেই বড় বড় গাছ, আর সেই একটা গাছের নীচেই আমার কফির কাপটার দিকে একদৃষ্টে সোজা তাকিয়ে একটা হায়না জিভ চাটছে।আমিও যথেষ্ট ঘাবড়ে গিয়ে  কফির কাপটা আস্তে আস্তে নামিয়ে রাখলাম। বাজুদা,বুলকিদি,মাম সব্বাই দেখি নিজেদের মত গপ্পো করে চলছে।ছোট্ট পুর্বা টেবিলের ওপরই ঘুমিয়ে পড়েছে।
আমি বেয়ারাটাকে ডাকার চেষ্টা করে, গলা দিয়ে আওয়াজ বের হল না।হায়নাতো মাংশাসী বলেই জানি।মশা তাড়াবার মত করে হুশ হুশ করলাম কয়েকবার....হাতের ক্যামেরাটাও ছোড়ার ভঙ্গী করলাম....কিসের কি!! ও শালা মুচকি মুচকি হাসছে....বাকীরা এত কথা বলতে পারে কেন,কে জানে...ঘাড়ের ওপর ডাইনোসর নিশ্বাস ফেলছে !! ওরে...এদিকে দ্যাখরে একবার...বাকীদের দৃষ্টি আকর্ষন করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকি।তখন ডিজাইনার শাড়ি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে... মাম বার দুয়েক টেবিল ও চাপড়াল দেখি।হায়নাটা একবারের জন্য ওদিকে তাকিয়ে আবার আমার চোখে চোখ রাখল!!জ্বলন্ত চোখ!!
আমি যেহেতু ফেস টু ফেস... আমিই টার্গেট। ব্যাটা ঠিককোনদিকে  লাফটা দেবে তাই মন দিয়ে হিসেব কষছি আর প্রমাদ গুনছি।
হঠাত কানহা অভয়ারণ্যর আকাশ বাতাস চিরে দৈববাণীর মত শোনা গেল,... "দক্ষিনাপনের খাদিটাই সবথেকে ভাল..."............
আশেপাশের গাছ থেকে দু একটা পাখি অজানা আশংকায়, ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে গেল।
পুর্বা ঘুম থেকে উঠে ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠল।
হায়নাটা অত্যন্ত অবাক হয়ে একবার দৈববানীর উৎসের দিকে তাকাল... তারপর আমার দিকে ফিরল...এবার আমি ওর চোখে করুনা দেখতে পেলাম।  হায়না এবার মাথা নীচু করে আস্তে আস্তে পেছন ফিরে  গভীর অরন্যের দিকে চলেগেল।
আমি  এবার হাফ ছেড়ে কফির কাপটা তুলে নিলাম।
মাম এতক্ষনে একটু ফাঁক পেয়ে আমার টেবিলের দিকে ফিরে খেঁচিয়ে উঠল, কি ব্যাপার!! কোল্ড কফি করে খাবে নাকি!!

#খাওয়া না খাওয়ার খেলা, যদি চলত এই বিকেলবেলা...
হঠাত কি ঘটে যেত.... কিসসু বলা যায় না !!

No comments:

Post a Comment